all post

Responsive Advertisement

লালকেল্লা ও ফতেহপুর সিক্রি নিচে লুকিয়ে আছে প্রাচীন সনাতন সভ্যতার ইতিহাস। মিত্যা ইতিহাস খন্ডনের চাঞ্চল্য কর দাবি দুই বিদেশী প্রত্নতাত্ত্বিক এর। বিস্তারিত পড়ুন...

  লালকোট (লালকেল্লা) ও ফতেহপুর সিক্রি ফোর্ট গভেষনা করার দাবি রেখেছেন এলিনা ন্যূডার এবং মিসি নেজিরা। তারা বলেছেন এই দুই দূর্গ খনন করলেই ভারতে প্রাচীন সনাতন ইতিহাস বেড়িয়ে পরবে।

 


               এলিনা ন্যূডার এবং মিসি নেজিরার মন্তব্য 

                                  শিবাজী মিত্রের কলমে

কিছুই হারিয়ে যায় নি। এমনটাই মনে করেন ঐতিহাসিক এলিনা ন্যূডার। হতে পারে এ দেশের সব পুরোনো কিংবদন্তীর নাম বদলে দিয়েছিল লুটেরারা। হতে পারে হিন্দুর গৌরবের কাহিনীমালা চিরতরে মুছে দিয়ে হিন্দুদের  মেরুদন্ডহীন করে দেওয়ার অতীব সূক্ষ্ম এবং অব্যার্থ প্রয়াস হয়েছিল। তবুও তারা পেরেছে কি বিতর্ককে মুছে দিতে? সম্রাট আকবর কি পেরেছে নিজেকে মহান প্রমাণ করতে? শাহজাহান কি পেরেছে নিজেকে স্রষ্ঠা প্রমাণ করতে? সেকুলার ঐতিহাসিকরা কি পেরেছে মিথ্যার জঞ্জালকে বিতর্কের আগুন 🔥 থেকে বাঁচিয়ে রাখতে? পারেনি, পারবেও না।

কারন প্রত্নতত্ত্ব এবং পুরাতত্ব এমনই এক বিজ্ঞান যা দশ হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতারও এ টু জেড ইতিহাসকে চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিখুঁত এবং প্রমানিত সত্যতার ভিত্তিতে পুনরায় প্রতিস্থাপিত করতে পারে।

এলিনা ন্যূডার বলছেন জার্মান আর্কিওলজিস্ট গ্রুপের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে ভারতে  প্রথমবার গবেষণা করতে এসেছিলাম ১৯৮৬ সালে। আমি রীতিমত আশ্চর্য হয়েছিলাম।  ভারত তো শ্রেষ্ঠ বৈদিক শিল্পীদের দেশ। লাল-হলুদ পাথরের অতীব আশ্চর্য মন্দির শিল্পে যারা পৃথিবী বিখ্যাত। যারা প্রাম্বানন মন্দির তৈরি করেছে, যারা আঙ্কোরভাট - আঙ্কোরথম তৈরি করে  আজও পর্যন্ত বিশ্বকে ‌চমকে রেখেছে, সেই বৈদিক হিন্দুদের নিজের দেশে কোনোও সৃষ্টি নেই কেন? এও কি সম্ভব?

আমাদের সন্দেহের অবসান হয় রেইজিট কার্বন টেস্টে। কার্বন টেস্ট নিরিক্ষায় পাওয়া যায় কম করে হাজার থেকে বারশো পর্য্যন্ত বছরের ব্যবধানে এই সব কিছুই নির্মিত।

এলিনা ন্যূডারের মতনই হল্যান্ডের প্রসিদ্ধ পূরাতাত্বিক শ্রীমতী মিসি নোজিরা একমত যে সবচেয়ে বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে ফতেহপুর সিক্রির ইতিহাস। যদি পূরাতাত্বিকদের হাতে গবেষণার জন্য ফতেহপুর সিক্রিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কারন ফতেহপুর সিক্রির ইতিহাস মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। সে অতীত যতটা গৌরবের  তাকে  ধ্বংস করার আকবরি চক্রান্ত ছিল ততটাই নিষ্ঠুর ও মমতাহীন।  এতটাই ভয়াবহ যে সে ইতিহাস নিঃসন্দেহে হিন্দুর সেকুলার মাইন্ডসেটকেও সম্পূর্ণ রূপে প্রভাবিত করবে।

মিসি নোজিরা তার পুস্তক ' ডিস্কোভার বিসিস্ ওন আর্থ' এ লিখেছেন সম্রাট আকবরকে ভারতের ইতিহাসে ঠিক যেভাবে দেখানো হয় আকবর একেবারেই তেমনটি ছিলেন না। তিনি ছিলেন ঔরঙ্গজেবের মতনই নিষ্ঠুর অথচ অতি চতুর। ফতেহপুর সিক্রির জন্ম হয়েছে এমনই অতি নিষ্ঠুরতার মধ্যে দিয়ে। ২২০০০ মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় সাড়ে তিনশো হিন্দু ও জৈন মন্দিরের ধ্বংস করেই তৈরি হয় আকবরের স্বপ্নের ফতেহপুর সিক্রি। তৈরি কথাটা বলা এখানে ভুল। বরং বলা যেতে পারে আকবর দ্বারা ফতেহপুর সিক্রি নির্মানের  সাজানো গল্পটি। কারন আকবর কিছুই তৈরি করেন নি। একটি অতীব অতীব প্রাচীন শহরকে ধ্বংস করে মাটির সাথে মিলিয়ে দিয়ে মূল মহলগুলিকে বাঁচিয়ে রেখে বিশ্বাস ভাজন রচনাকারদের দিয়ে সেটি নিজের সৃষ্টি বলে বর্ণনা করান তিনি । তারই নাম দেন ফতেহপুর সিক্রি।

মূল যে শহরটি আকবর ধ্বংস করেন তা হিন্দুর অত্যন্ত গর্বের এবং অতীব অতীব প্রাচীন এক ঐতিহ্য ও বিশ্বমানের কারুকার্য মন্ডিত শহর ছিল বলেই হিংসার বশবর্তী হয়ে আকবর তা ধুলিসাৎ করেন এবং প্রমাণলোপ করতে সেগুলি মাটি চাপা দেন।

ঐতিহাসিক এলিনা ন্যূডার একই মতামত ব্যক্ত করে বলছেন ফতেহপুর সিক্রি নির্মানের পিছনের গল্পটি অতীব রক্তাক্ত। ফতেহ শব্দটির আরবীয় অর্থ বিজয়। সিক্রি শব্দটির আরবী অর্থ মহল। অর্থাৎ ফতেহপুর সিক্রি যে নির্মান নয় আকবরের জয় করা মহল তা নামের মধ্যে দিয়েই নিজের অজান্তেই আকবর প্রকাশ করে দিয়েছেন। কিন্তু আকবরের চাপলুস সেকুলার ঐতিহাসিকরা আকবরকে মহিমান্বিত করতেই ফতেহপুরকে মিশ্র সংস্কৃতির নমুনা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

এলিনা আরো বলছেন, ফতেহপুর সিক্রি জয়ের উদ্দেশ্য ও প্রয়োগ ছিল অত্যন্ত কদর্য। উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুর গৌরবের মূল শহরটি কে মাটির সাথে মিলিয়ে দিয়ে ভারতবর্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর আইডেন্টিটিকে চিরতরে মুছে দেওয়া। এবং সর্বাধিক প্রাচীন এই শহরের শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম তথা শিল্পকলার সাথে সম্রাট আকবরের নামটি জূড়ে দেওয়া। আকবর এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেনাপতি বদরুল শাহকে।


(খবর গুলো ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না পাঠক বন্ধুরা। আপনাদের সহযোগিতাই সনাতনের পুনরুত্থান ।এগিয়ে আসুন, সনাতন কে এগিয়ে নিতে)
                           

Post a Comment

0 Comments