all post

Responsive Advertisement

ভারতীয় সকল শহরের নাম হিন্দুধর্ম অনুসারে থাকায় ইসলামিক শাসকরা তা পরিবর্তন করেন দাবী ঐতিহাসিক জন ক্লের। বিস্তারিত পড়ুন.. .

 হিন্দুদের  প্রবল একতা ভাঙ্গতেই কুশলনগরমের নাম পরিবর্তন করে তাকে দুটি ভাগে ভাগ করে দুটি আরবী নাম জুড়ে দেন মুঘল বাদশাহ হুমায়ূন ।

 


        ঐতিহাসিক জন ক্লের দাবি (কলমে শিবাজী মিত্র)

রাজা বিক্রমাদিত্যের স্বপ্নের সাজানো শহর ছিল কুশল নগরম। খ্রীষ্টপূর্বের ভারতীয় সনাতনী মানুষের কাছে এই অপরূপ সৌন্দর্য মন্ডিত নগরীর আদুরে নাম ছিল কুশীনগরম। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন কর্নাটকের কুশলনগর কিংবা উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরের সাথে অতীতের এই নগরীর কোনো সম্পর্ক নেই। বিক্রমাদিত্যের কুশলনগরম ছিল মিহিরাবলী (বর্তমানে দিল্লির মেহরৌলি) নগরের লাগোয়া। পাটলীপুত্র এবং উজ্জ্বয়িনী বিক্রমাদিত্যের প্রথম ও দ্বিতীয় রাজধানী হলেও কুশলনগরম ছিল সে সময়ের সবচেয়ে সুসজ্জিত নগরী। বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার আসর ও বসত এখানেই। এর পেছনেও ছিল যথেষ্ট কারণ।

ইতিহাস বলছে আজ থেকে ঠিক ২০৫০-৭০ বছর পূর্বে আজকের বিভক্ত ভারত-আফগানিস্তান-
পাকিস্থান-বাংলাদেশ-ব্রম্ভদেশ-কাম্বোডিয়া
-মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া হয়ে সূদূর আরব-সূদান অবধি বিস্তৃত ছিল রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজ্য সীমা। সে কারনেই বিশ্বের মানুষের কাছে রাজা বিক্রমাদিত্য ছিলেন এক অতীব পরিচিত নাম। পৃথিবীর জ্ঞানী-গুণী মানুষের সমাগম ভারতে লেগেই থাকত। গ্রীস-পারস্য-মোঙ্গল-ইউরোপ থেকে স্বনামধন্য পর্যটকেরা এসময়েই ভারতে এসেছিলেন। ইউরোপিয়ান পর্যটক বিয়ারিজ আরানা, গ্রীক পর্যটক মেগাস্থিনিস, ফরাসি পর্যটক লূসিয়ানিভি, আরবীয় পর্যটক দারুল হামি, রাশিয়ান পর্যটক বেলোচিকেরা এই সময়েই ভারত পর্যটনে এসেছিলেন। এই পর্যটকদের বসবাস এবং বিশ্রামাবাস হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল কুশলনগরম নামের সেসময়ের সর্বাধুনিকতায় ভরা আধুনিক এই নগরটিকে।

বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার প্রত্যেক রত্নের জন্যই ছিল পৃথক আবাস। বনানী দিয়ে ঘেরা ছোট ছোট কুঞ্জবন এবং বৃহৎ আকারের ঘন্টা সংবলিত লাল ও হলুদ পাথরের অলংকৃত মন্দির। যে ঘন্টার আওয়াজ বহুদূর অবধি শোনা যেত। বিষ্ণু-গনপতি-শিবশম্ভু-দেবী পার্বতী - দেবী লক্ষীর মন্দির। এই একটি নগরেই ছিল প্রায় সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি হিন্দু মন্দির। মন্দির প্রাঙ্গণে থাকত গরীব-বিদ্বজন-ব্যাপারী-পর্যটক এবং অভ্যাগত নির্বিশেষে সকল মানুষের দূবেলা খাওয়ার ব্যাবস্থা। দিনরাত নির্বিশেষে মন্দিরের দূয়ার 

 

থাকত খোলা। বিত্তবান মানুষের দানের পয়সায় চলত মানুষের নিত্য খাওয়া এবং দেবতার সেবার খরচ।

শহর জূড়ে ছিল তর্কশাস্ত্রের উপর প্রতিযোগিতার জন্য  ছিল একাধিক মঞ্চ। বিদেশী তার্কিক এবং ভারতীয় তার্কিকরা পরস্পরের বিরুদ্ধে তর্কে যোগ দিত। তর্কের বিষয় থাকত ধর্ম এবং দর্শন। বিশেষ বিশেষ বিতর্কে রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নেরাও অংশ নিতেন। আসতেন জৈন মুনি এবং সাধকেরাও। জ্ঞানের বিস্তার ঘটাতে তাঁরা সেখানে মঠ ও মন্দির তৈরি করে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। জয়ী তার্কিকের জন্য থাকত মূল্যবান পুরষ্কার। শহরে ছিল একাধিক পাঠাগার। শহরের এবং দূর-দূরান্তের আসা পন্ডিতেরা এখানে পড়াশোনা করতেন। ছিল বিচার সভা ও নির্নয় সভা। ছিল প্রমোদ বিলাসের উপকরন। মন্দিরের ঘন্টাধ্বনিতে মূখর থাকত এই নগরী সর্বক্ষণের জন্য।

বিদেশী মানুষেরা শহরের কলাকৌশলে এবং সূক্ষ্ম পাথরের ক্রিয়াকর্মে মুগ্ধ হত।

খ্রীষ্টাব্দ পূর্ব ৫৪ থেকে  ১৩০০ খ্রীষ্টাব্দ পেরিয়ে আরও কিছু সময় পর্যন্ত এই নগরী নিজের ঠাঁটবাঁট  বজায় রেখেছিল। রাজা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত-শৈলবাহন এবং রাজা শতবাহনের রাজত্ব পর্যন্ত এই শহর ছিল একই রকমভাবে গরিমাময়। জালাল উদ্দিন এবং আলাউদ্দিন খলজীর সময় থেকে ক্রমশঃ কুশলনগরম  অপাংক্তেয় হয়ে উঠতে থাকে। কারন সুলতানদের দিল্লিই ছিল পছন্দের। আর কুশলনগরমের মানুষের অত্যধিক ধর্মীয় আচরণের বাড়াবাড়ি তাদের ছিল না পসন্দ।

১৫৩২ সালে আচমকাই মুঘল সম্রাট হুমায়ূনের নির্দেশে কুশলনগরম কে দুটি ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। এবং নাম ও বদলে দেওয়া হয়। নতুন নাম হয় জাহানপুর এবং নূরপুর। দুটোই ছিল আরবী নাম।হিন্দু ধর্মের যে গরিমা কুশলনগরম বয়ে চলছিল তা ক্রমশঃ অসহ্য হয়ে উঠতে থাকে মুঘল বাদশাহদের কাছে। হিন্দুদের সেই প্রবল একতা ভাঙ্গতেই কুশলনগরমের নাম পরিবর্তন করে তাকে দুটি ভাগে ভাগ করে দুটি আরবী নাম জুড়ে দেন মুঘল বাদশাহ হুমায়ূন ।


      (অপনাদের কাছে অনুরোধ একটা করে শেয়ার করলে এই পরিশ্রম সার্থক হয় সকলের কাছেই সংবাদটা পৌঁছে যাবে)

Post a Comment

0 Comments