ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM ROHATAK) -এর ডিরেক্টর প্রফেসর ধীরাজ শর্মা সাল ১৯৫০ থেকে ২০১০ এর মধ্যে রিলিজ হওয়া সকল হিন্দী সিনেমার ওপর গভেষনা করেছেন। আর এই গভেষনা ফলাফল আপনাকে চমকে দেবে। এই গভেষনা তে জানা গেছে যে আমাদের যে এই হিন্দী মুভিতে শিখ সমুদয় এর ৭৪% অভিনেতা এমন হয় যে, এই অভিনেতাদেরকে নিয়ে সব সময়ই মজা করা হয় । জোকারদের. মতো এদেরকে ব্যাবহার করা হয়। ভ্রষ্টাচার রাজনেতাদের ৫৮% অভিনেতাকে দেখানো হয় উচ্চ বর্ণের ব্রাক্ষ্মন যাদের পদবী দেখলেই বোঝা যায়। এরা সব সময়ই ই ভ্রাষ্টাচারের সাথে জড়িত। ৬২% অভিনেতারদের নাম বৈষ্য বর্ণের হয় যাদেরকে দেখানো হয় যে এরা অসাধু ব্যবসায়ী। আর এর বিপরীত ৮৪% মুভিতে মুসলিমদের কে দেখানো হয় ধার্মিক নিষ্ঠাবান ও ঈমানদার মুসলিম। এই ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি নেই ,কেনো মুসলিমদের কে সর্বদাই এমন সৎ ঈমানদার দেখানো হয়। সুধীর চৌধুরী তার ডি এন এ শো তে বলেছেন যে, যে ভাবে মুসলিমদেকে মুভিতে এতো সৎ ঈমানদার দেখানো হয়, তাতে আমাদের আপত্তি নেই কিন্তু কি কারনে হিন্দুদের কে এমন ভ্রষ্টাচার, শয়তান পাপী গোষ্ডা দেখানো হচ্ছে। হিন্দুদের ও তো সমাম মম্মান মিলা প্রয়োজন। তাহলে কেনো এমন করা হচ্ছে। কেনো এই বহুসংখ্যক হিন্দুদের কেই এমন করে খারাপ দেখানো হবে এটা নিয়ে আবশ্যই প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন।
অনেক মুভি ও ওয়েভ সিরিজে নাকারাত্মক কীদ্দারকদের কে হিন্দু দেখানো হয়। সব সময়ই খারাপ করা অভিনেতাকেই হিন্দু দেখানো হচ্ছে। এটা প্রমাণ করার জন্য এই সকল হিন্দু অভিনেতাদের মাথায় তীলক, গলায় মালা এমনকি গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করানো হয়। আপনিও হয়তো এমন অনেক মুভি দেখেছেন আনন্দ নিয়েছেন কিন্তু এমন ঘৃন্য আপকর্ম যেটা হিন্দুদের কে টার্গেট করে করা হচ্ছে যেটা হয়তো কখনো আপনারা ভেবে দেখেন নি। একবার ভেবে দেখুন তো মুসলিমদের কে নিয়ে এমন দেখালে সমাজের কি পরিবেশ হতো? এর বিপরীতে কোনো মুসলিম অভিনেতা যতোই খারাপ চরিত্রের অভিনয় করুক না কেনো তাকে দেখানো হয় একজন সুন্দর কলাকার ঠিক রবীনহুট এর মতো।
সিনেমা তে এক মুসলমান সারাপ তসকর কে এক চালাক ব্যাপারীতে বদলে দেওয়া হয়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরন " দাউদ ইব্রাহীম" ।দাউদ ইব্রাহীম এর মতো আন্ডার ওয়ার্ল্ড ডন এর বোনকে রবিনহুড এর মতো মানে গরীবের প্রভু হিসাবে দেখানো হচ্ছে। দাউদ ইব্রাহীম কে একজন ডন হিসাবে দেখানো হয় কিন্তু একদম গ্লামারের সাথে দেখানো হয়।
( মুভি:RAEES দাউদ ইব্রাহীম এর অভিনয়ে শাহরুখ খান কি ম্যাসেজ দিতে চাইছে একটু ভেবে দেখুন)
একজন ডন সে আচানক একজন দয়ালু মানুষে পরিনত হয়ে যায়। এমন অনেক উদাহরন আপনি চাইলেই পেয়ে যাবেন। আমাদের এই সব মুভিতে। মুভিতে হিন্দু ধর্মের মজাক খুব সহজেই করা যায়। কিন্তু ক্রিয়েটিভ মুভির নামে এমন সজাক করার সাহস অন্যধর্মের সাথে কোনো ডিরেক্টর, প্রডিউসার ও অভিনেতার মধ্যে নেই। ১৯৭০ এ এসেছিলো খুব জনপ্রিয় হিন্দী মুভি "দীবার"যে মুভিতে খুব জনপ্রিয় একজন অভিনেতা নাম অমিতাভ বচ্চন অভিনয়ে নাম রেখেছিলেন "বিজয়" যিনি ভগবানের মন্দিয়ে গিয়ে ভগবানের ওপর প্রশ্ন উঠায় কিন্তু কারো এই মুভিতে আপত্তি হয় নি। বরং এই মুভি সুপার ডুপার হিট হয়েছিলো। আর এই সিনেমা দেখার দর্শকদের সব থেকে বড় অংশ ছিলো হিন্দুরাই। মুভিতে একজন পুওরয কিসমকি অভিনেতার নাম রাম রাখা হয়। অনেক আপত্তি জনক ডাইলোগ লিখা হয় কিন্তু এর ওপর কেউ কিছু বলে না।
সাল ২০১৩ তে একটা জনপ্রিয় মুভি এসেছিলো মুভির নাম ছিলো গোলিও কি রাসলীলা "রামলীলা" এই মুভিতে রনবীর সিং রাম এর অভিনয়ে ছিলেন ও দীপীকা পাদুকর এর নাম ছিলো লীলা। এই ফ্লিমে একটা ডাইলোগ ব্যাবহার করা হয় এইরকম যে, রাম রং রেলিয়া বানাবে হনুমান গলিতে। এই মুভিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আর হনুমান এর বেশ ধারন করে অনেক লোককে এক সাথে নোংরা নাচ করতে দেখানো হয়েছে আর সিনের ব্যাকগ্রাউন্ড এ রাম এর একটা পোষ্টার লাগিয়ে রাখা হয়েছিলো।
আমির খানের মুভি "পি কে" তে হিন্দু সংস্কৃতি ও নিয়ম নীতিকে মজাক করা হয়েছে ও প্রশ্ন ওঠানো হয়েছে। আমির খানের দ্বারা সরাসরি এই প্রশ্ন ও করানো হয়েছে ( কন কেহতাহে মুসলমান ধোকা দেতা হে - অনুবাদ - কে বলে মুসলমান ধোকা দেয়। হিন্দু সাধুরা ভন্ড হয় তারা ঠকায়।)
আর যখনই কোনো মুভিতে ইসলাম বা ইসাই ধর্মের ওপর প্রশ্ন তুললেই মুসলমানরা ও ইসাইরা দেশে হাঙ্গামা শুরু করে দেয় পরবর্তীতে ঐ সিনকে রিমুভ করে দেওয়া হয়।
ভারতে তৈরী মুভিতে পাকিস্তানীদের ভালো বনাকে সুন্দর ভাবে খেয়াল রাখা হয়। তাদের কে যেনো খারাপ বলা না হয় তার দিকে খুব ভালো ভাবে নজর রাখেন এক্টর রা। (মুভি-বজরঙ্গী ভাইজান।- অভিনয়ে সালমান খান, শাহরুখ খানের ও অনেক মুভি আছে যেখানে পাকিস্তানের ভক্তদের ওপর শ্রদ্ধার সাথে উপস্থাপন করা হয়।
IIM ROHATAK এর প্রফেসর ধীরাজ শর্মা যিনি এমন ২০ টি মুভির ওপর অধ্যায়ন করেছেন যার কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তান। এমন ১৮ টা মুভিতে দেখানো হয়েছে পাকিস্তানের মানুষের মন খুব ভালো। আর তারা ভারতীয়দের কে অভিনন্দন করছে এমন দেখানো হয়েছে। আর বিপরীতে ভারতের লোকেদের কে (হিন্দুদের কে) ধার্মিক দিক থেকে কট্টর পন্থী দেখানো হয়েছে। উদাহরন স্বরুপ বজরঙ্গী ভাইজান মুভিতে হিন্দুদের কে কট্টর পন্থী ও পাকিস্তানের মুসলিমদের কে মনের দিক থেকে সবথেকে ভালো দেখানো হয়েছে।
পাকিস্তানে হিন্দী মুভি দেখার লোকসংখ্যা ১৮ কোটি আর ভারতের বহুসংখ্যক হিন্দুদের দমের ওপর মুভিকে হিট করানো হয় যার সংখ্যা করীব ১০০ কোটি। তবুও ভারতের মুভিতে পাকিস্তানীদের কে সম্মান দেখানো হয়। কিন্তু আমাদের দেশের বহুসংখ্যক হিন্দুদেরকেই কট্টর পন্থী দেখানো হয়।
কিন্তু আপনি দক্ষিণ ভারতের মুভি গুলো দেখবেন যেখানে এমন ভাবে দেখানো হয় না যে, হিন্দুরা কট্টর পন্থী। দক্ষিণ ভারতের মুভিতে ভারতের সনাতনী সংস্কৃতি, মন্দির, পরম্পরা গুলো দেখানো হয় এবং হীরোদেরকে গর্ভের সাথে হিন্দু হবার অনুভব দেখানো হয়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরন জনপ্রিয় মুভি "বাহুবলী" এই মুভির নায়ক শুধু মাত্র হিন্দু নয় তিনি একজন ভগবান শীবের বড় ভক্ত রুপে দেখানো হয়েছে।
এ এক আজীব বিরোধ যেখানে বহুসংখ্যকদের কে আপমান করা হয় ও আল্প সংখ্যক দের কে সম্মান দেওয়া হয়। কিন্তু এমন একটা সময় ছিলো যে সময়ে সিনেমা জগতে সম্মান পাবার জন্য মুসলিম অভিনেতাদের কে নাম পরিবর্তন করে হিন্দুদের নাম ব্যাবহার করতে হতো। এই প্রথাকেও আমরা তীব্র ভাবে বিরোধ করি। কারন এটাও হিন্দুদের কে ঠকানোর একটা পদ্ধতি অবলম্বন করা হতো। তাদের নাম একদম ই বদলানোর প্রয়োজন ছিলো না। উদাহরন স্বরুপ
(মহম্মদ ইউসুফ খান নাম পরিবর্তন করে হয়েছিলেন দীলিপ কুমার, মুমতাজ জাহান হয়েছিলেন-মধুবালা, মেহজবীন বানু হয়েছিলেন মীনা কুমারী, হামীদ আলি খান হয়েছিলেন আমীত কুমার)
আজ আমার প্রশ্ন কেনো আসল নাম পরিবর্তন করে ছদ্দ নাম রেখেছিলেন এনারা। কি উদ্দেশ্যে ছিলো আসল নামেই কেনো তারা তাদের মুভি করলেন না, হতে পারে ঐ সময় তাদের মনে হতো যে মুসলিম নামে তাদের কে কেউ পছন্দ করবে না। কারন ভারতে হিন্দুদের সংখ্যা বেশি ছিলো। তাদের মুভি কে কেউ দেখবে না কারন তারা পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে এসেছিলেন বলে। আর এই জন্যেই তারা হয়তো তাদের নাম পরিবর্তন করে হিন্দু নাম রেখেছিলেন।
তারা বুঝেছিলো মুভি ও বিজ্ঞাপনের জন্য হিন্দুরা শুধুমাত্র উপভোক্তা, কাস্টমার। এমন কাস্টমার যাদের কে সব সময়ই আপমান করা তাদের শ্রদ্ধাকে আপমান করার জন্য কেউ ই এক মুহূর্তো দেরী করে নি।
যদি আপনি জামানর পার্থক্য করেন যেখানে দীলিপ কুমার / ইউসুফ খান নাম পাল্টে হিন্দু নাম ধারন করেন। কিন্তু আজ তা করতে হচ্ছে না, শাহরুখ খান,সালমান খান, আমির খান, ফরান আক্তার, নাসির উদ্দিন কেউ ই তাদের নাম পরিবর্তন না করেই ভারতে জনপ্রিয় হয়েছে হিন্দুদের টাকায় বড়লোক হয়েছে তবুও যারা বলছে ভারত অসহনশীল হয়ে পরেছে তাদের জন্য বলি একটু বিচার করে দেখবেন এই দেশে কারা অসহনশীল হয়ে উঠেছে। এই. হিন্দু জাতি কি চীরকাল ই গোলামী করে যাবে। সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর। উঠো জাগো স্বধর্ম প্রতিষঠা না করা পর্যন্ত থেমে থেকো না। তুমি জীতবেই।
সকল বন্ধুদের আছে অনুরোধ শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনার দ্বারা যদি একজন সনাতনী ভাই ও এই কাহিনী জানতে পারে তাহলেও অনেক। একবারে না হলেও ধীরে ধীরে হবে। ধন্যবাদ।


0 Comments